বায়োটিন হলো পানিতে দ্রবনীয় উপাদান, যা ভিটামিন এইচ নামে পরিচিত। এছাড়াও বায়োটিনকে বি–ভিটামিন বা ভিটামিন বি–৭ ও বলা হয়।
বায়োটিন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি বিপাকে সাহায্য করে। এটি প্রোটিন ব্লাক,অ্যামাইনো ও ফ্যাটি এসিডের উৎস। বায়োটিনের ঘাটতিতে চুল , নখ ও ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সাথে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো সমস্যাও হতে পারে।
বায়োটিন পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় শরীরে বেশিক্ষণ সংরক্ষিত থাকে না বলে একে নিয়মিত গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়। বায়োটিনের ঘাটতিজনিত প্রভাব এড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে নিয়মিত ১০০০ মাইক্রোগ্রাম এর বেশি বায়োটিন গ্রহণ প্রয়োজন। বায়োটিন প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি গ্রহণ করা হলেও কোন ক্ষতি হয় না। বায়োটিন পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং খুব সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যায় বলে কোন ক্ষতি করে না।
বায়োটিনের ঘাটতির সাধারণ কিছু লক্ষণ হচ্ছে, ত্বকে র্যাশ হওয়া, শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চুলকানো, নখ ভেঙ্গে যাওয়া, ত্বক ধূসর হয়ে যাওয়া, চোখের চারপাশে খসখসে লালভাব, পেশীতে ব্যথা, বিষণ্ণতা এবং ক্লান্ত অনুভব করা।
এছাড়াও বায়োটিনের ঘাটতির ফলে ডারমাটাইটিস, অতিরিক্ত চুল পড়া ও তাড়াতাড়ি চুল পেকে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে
টোটাল বায়োটিনের স্বাস্থ্যগত উপকারীতাঃ
(০১) সুস্থ চুল, ত্বক এবং নখের যত্নেঃ
গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে. উচ্চ মাত্রায় বায়োটিন গ্রহনের মাধ্যমে দুর্বল প্রকৃতির চুল এবং ভঙ্গুর নখের আচরণগত পরিবর্তন ঘটে। এছাড়া বায়োটিনের মধ্যে থাকা ভিটামিন বি–৭ ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমনঃ ব্রণ, ছত্রাক সংক্রমণ, লাল লাল ফুসকুড়ি এবং বিভিন্ন শুষ্কতা ও ফেটে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে।
(০২) স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করেঃ
সাধারণত আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব খাবার গ্রহন করি সেগুলোকে স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করতে অন্যান্য বি ভিটামিন সহ ভিটামিন বি–৭ খুবই প্রয়োজন। স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়ার এই কাজটি ভিটামিন বি–৭ বিভিন্নভাবে সম্পন্ন করে। ইহা কার্বহাইড্রেটকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে এবং শর্করার বিভিন্ন উৎসসমূহকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎসে পরিণত করে। বায়োটিন বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রোটিন থেকে ব্যবহারযোগ্য অ্যামাইনো এসিড বের করে আনে এবং খাদ্যের মধ্যে থাকা তেল ও প্রানীজ জাতীয় চর্বিকে ফ্যাটি এসিডে পরিণত করে।
(০৩) স্বাভাবিক কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বজায় রাখতে সহয়তা করেঃ
গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, ভিটামিন বি–৭ কোলেস্টেরল লেবেল এর মাত্রাকে উন্নত করে। ভিটামিন বি–৭ ‘ভাল’ ঐউখ কোলেস্টেরল এর মাত্রাকে বৃদ্ধি করতে এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এর মাত্রাকে হ্রাস করতে ভাল ফলাফল দেখায়। এটা বিশেষভাবে সত্যি যে, যেসব ব্যক্তিরা ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।
(০৪) গ্লুকোজের অসহনীয়তা এবং শর্করার সঠিক মাত্রাকে উন্নত করেঃ
যে সকল লোক ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কম করতে ভিটামিন বি–৭ বা বায়োটিন সাহায্য করে। এটি বিশেষ ভাবে সত্যি ঐ সকল লোকের জন্য যারা ভালমানের ঔষধ সেবনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন না তাদের জন্য ভিটামিন বি–৭ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য উপকারী। কারণ ইহা ইনসুলিনএর কার্যকারীতাকে সহজতর করে।এই ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রাকে সঠিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন।
(০৫) মস্তিষ্কের ক্রিয়া এবং ক্ষয় রোধেঃ
ভিটামিন বি–৭ নার্ভাস সিস্টেম রক্ষার জন্য কাজ করে কারণ স্নায়ু সংকেত এবং নিউরোটান্সমিটার কার্যকারীতায় ভিটামিন বি–৭ এর যতেষ্ঠ ভূমিকা আছে।ভিটামিন বি–৭ মস্তিষ্কের খারাপ ক্রিয়ার এবং বয়সজনিত মানষিক বিশৃংখলা উপর একত্রে কাজ করে যেমনঃ নিউরোডিজেনারেটিফ বিশৃংখলা যাকে অ্যালজিমার রোগ বা ভুলে যাওয়া রোগ বলে।
(০৬) টিস্যু ও পেশীর গঠন ও মেরামত করতেঃ
যখন মানব শরীরের টিস্যু ও পেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন ভিটামিন বি তে বিদ্যমান ভিটামিন বি–৭ পেশীর শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে এবং টিস্যু বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়। এছাড়া ভিটামিন বি পেশীর প্রদাহ কম করতে সাহায্য করে যার ফলে পেশী বা সন্ধির ব্যাথা এবং নড়াচড়া জনিত ব্যাথা উপশম করে।
(০৭) থাইরয়েড এবং অ্যাড্রিনাল ক্রিয়ায় সাহায্য করেঃ
থাইরয়েড এবং অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি হলো প্রধান গ্রন্থি যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অবস্থা যেমনঃ ক্ষুধা, ঘুম, ব্যাথা উপলদ্ধি, ওমানসিক অবস্থার জন্য দায়ী। ভিটামিন বি এর অভাবে থাইরয়েড এবং অ্যাড্রিনাল জনিত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে যার ফলে খারাপ লক্ষণ যেমনঃ ক্লান্তি বা অবসাদ, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি।
Reviews
There are no reviews yet.